0

১২ হাজার বছরের গোবেকলি তেপে!

১২ হাজার বছরের গোবেকলি তেপে!: "



তখন গ্রীষ্মকাল। এক কুর্দি মেষপালক প্রতিদিনের মতো তার ভেড়াগুলো চড়াচ্ছিল। আকাশে মেঘের কোন নাম-নিশানা নেই। যত দূর চোখ যায় রুক্ষ কঠিন পাহাড় আর পাথর। দূর-দুরান্ত পর্যন্ত মানুষের কোন হদিস নেই। বাতাসের শন শন শব্দ ছাড়া নেই কোনও সাড়া শব্দ। কয়েকটি চিল আকাশে ঘূর্ণায়মান। ক্লান্ত-শ্রান্ত মেষপালক খুব সতর্ক, শেয়ালের ভয় আছে। তার পোষা কুকুরটাও এ বিষয়ে সজাগ।



মেষপালক তার ভেড়াগুলোকে অনুসরণ করে এক সময় ছোট ছোট টিলায় ঘেরা একটি উঠোনের মতো জায়গায় চলে আসে। হঠাৎ মরুর নিস্তব্ধতা ভেঙে পড়ে একটি ভেড়ার গলার ঘন্টার ঝনঝন শব্দে। মেষপালক চমকে ওঠে। শেয়াল নাতো! কুকুরটাকে নিয়ে ছুটে যায় সেই ভেড়াটির কাছে। কাছে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে, ভেড়াটি সুরক্ষিত। একটি পাথরে লেগে বেজে উঠেছিল ঘন্টাটি। কিন্তু ধুলা-বালিতে ঢাকা এই পাথরটি একটু অন্যরকম। মেষপালক পাথর টুকরোটি পরিস্কার করে দেখলো, পাথরটি দীর্ঘ এবং সুন্দর করে কাটা। সে তার ডানে-বাঁয়ে তাকিয়ে বিস্মিত, চারপাশে এমন আরো অনেকগুলো পাথর খ- ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সে বুঝলো, এটি কোনও সাধারণ স্থান নয়। সবাইকে জানানোর জন্য মেষপালক তখনই তার গ্রামে ফিরে যায়।



মেষপালক সেদিন সঠিক ছিল। সত্যিই সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থানের একটি। ১৯৯৪ সালে এক মেষপালক যে স্থানটি আবিষ্কার করেছিল সে স্থানটি এখন গোবেকলি তেপে (Gobekli Tepe) নামে বিশ্বে পরিচিত। তুর্কি গোবেকলি তেপে শব্দের অর্থ ‘উদর বিশিষ্ট পাহাড়’। গোবেকলি তেপে প্রাঙ্গনটি তুর্কির উরফা শহর থেকে মাত্র ৬ মাইল দূরে অবস্থিত। ১৯৯৪ সালের পূর্বের ৫০ বছরের মধ্যে এটিই ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার। মেষপালকের আবিষ্কারের খবর প্রথম পৌছায় তুর্কির সানলিউরফা (Sanliurfa) শহরের একটি জাদুঘরে। তারা তা জানায় ইস্তানবুলে অবস্থিত জার্মান আর্কিওলজি ইনস্টিটিউটকে। ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে ’৯৪ সালের শেষ দিকে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ ক্লাউস স্মিড (Klaus Schmidt) প্রথম গোবেকলি তেপের খনন কাজ শুরু করেন। তবে এর আগেও ১৯৬০-এর দিকে শিকাগো ও ইস্তানবুল বিশ্ববিদ্যালয় গোবেকলি তেপের সন্ধান পেয়েছিল। কিন্তু তারা তখন এটিকে একটি সাদা-মাটা কবরস্থান ভেবে তেমন পাত্তা দেয়নি।



স্মিড গোবেকলি তেপে থেকে আবিষ্কার করেন অনেকগুলো প্রত্নবস্তু। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হলো কতগুলো টি-আকৃতির পাথরের স্তম্ভ। স্তম্ভগুলোর গায়ে খোদাই করা বিভিন্ন ধরনের নকশা। এ পর্যন্ত মোট ৪৫টি স্তম্ভ আবিষ্কৃত হয়েছে। খোদাই করা ছবি সম্বলিত স্তম্ভগুলোর উচ্চতা ১৬ ফুট পর্যন্ত এবং ওজন ৭ থেকে ১০ টন। শুকর, হাঁস, সাপ, শিয়াল, বাঘ, সিংহ, বিছা, শকুন এবং শিকার খেলার ছবি খোদাই করে স্তম্ভগুলোর গায়ে সাঁটা। স্তম্ভগুলো বসিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ছোট-বড় বৃত্ত। অনেকটা ইংল্যান্ডে স্টোনহেঞ্জের মতো। তবে গোবেকলি তেপেতে এই বৃত্ত সংখ্যা একাধিক। বৃত্তগুলো আবার ঘিরে দেয়া হয়েছিল দেয়ালে। ফলে বৃত্তগুলো দেখতে অনেকটা কুয়োর মতো। বৃত্তগুলোর ব্যাস ১৫ থেকে ৩০ ফুট। ধারনা করা হচ্ছে ২২ একর জায়গায় কমপক্ষে আরও ১৬টি বৃত্ত আবিষ্কার হওয়া বাকি। এখন পর্যন্ত গোবেলিক তেপের মাত্র ১ একর জায়গা খনন করা হয়েছে।







কবে, কেন, কিভাবে তৈরি করা হয়েছিল এই গোবেকলি তেপে? স্তম্ভগুলোর গায়ের ছবি, সংকেত এবং প্রাঙ্গন তৈরির অন্যান্য উপাদান রাসায়নিক পদ্ধতিতে বিচার বিশ্লেষণ করে প্রত্নবিদরা ঘোষণা দেন, গোবেকলি তেপে ১২ হাজার বছরের প্রাচীন! কেউ কেউ বলেন ১৩ হাজার বছরের পুরনো। এ তথ্যের সাথে একমত পোষণ করে প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়ান হোডার (Ian Hodder) বলেন, গোবেকলি তেপে ইতিহাসকে ওলোট-পালোট করে দিয়েছে। দক্ষিণ আফিকার উইটওয়াটারস্রেন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (Witwatersrand University) অধ্যাপক ডেভিড লুইস (David Lewis) বলেন, গোবেকলি তেপে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নকেন্দ্র। আরেক প্রত্নবিদ স্টেভ মিথেন বলেছে যে গোবেকলি তেপে তার কাছে এক বিস্ময় যা তিনি বুঝে উঠতে পারেন না।



খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার বছর পূর্বে মন্দিরটি প্রস্তর যুগের মানুষরা তৈরি করেছিল। মনে করা হচ্ছে এখন পর্যন্ত এটিই পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রত্নকেন্দ্র। কেননা প্রচীনতম প্রত্ননিদর্শন স্টোনহেঞ্জ ৩ হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে এবং মিসরের গিজা পিরামিড ২ হাজার ৫শ খ্রিস্টপূর্বাব্দে নির্মিত। ক্লাউস স্মিড ১০ বছরের বেশি সময় ধরে গোবেকলি তেপের ওপর গবেষণা করছেন। তিনি দাবি করেছেন গোবেকলি তেপে মানুষের তৈরি প্রথম উপাসনালয় বা মন্দির। নকশাকাটা পাথর স্তম্ভে গড়া বৃত্তগুলো তাই প্রমাণ করে। তখন এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি ছিল কৃষিবান্ধব, তাই আফ্রিকা ও পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের শিকারিরা বসবাসের জন্য তুর্কিকে বেছে নিয়েছিল। তারা শিকার ও কৃষি নির্ভর ছিল এবং চামড়ার তৈরি তাবুতে বসবাস করতো। খননের সময় প্রাপ্ত তীরের বেশ কিছু শলাকা প্রমাণ করে শিকারিরাই এই মন্দিরটি ব্যবহার করতো।



গোবেকলি তেপেকে ঘিরে মিথও আছে। কথিত আছে এটিই বাইবেল বর্ণিত সেই ইডেন উদ্যান, যেখানে আদম ও ইভ নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণের পূর্বে সুখে বসবাস করতো।



সে যাইহোক, ১২-১৩ হাজার বছরের প্রাচীন প্রত্নকেন্দ্র সম্বন্ধে শত ভাগ সঠিক তথ্য পাওয়া অসম্ভব। গোবেকলি তেপে সম্বন্ধে বলতে গিয়ে প্রত্নবিদদেরকে অনুমান ও ধারণার আশ্রয় নিতে হয়েছে, প্রমাণ ক্ষীন। রহস্য থেকেই যায়। প্রত্নবিদরা বলছেন, গোবেকলি তেপের নির্মাতারাই এটিকে মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল। কিন্তু মিথ অন্য কথা বলে। কথিত আছে, একদা দেবতারা শিকারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে গোবেকলি তেপে ধ্বংস করে দেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতানুসারে, যদি শিকারীরাই মন্দিরটি সমাধিস্থ করে থাকে, তাহলে প্রশ্ন জাগে-কেন করেছিল? উত্তর নেই।



সহায়ক গ্রন্থ : The Genesis Secret-Tom Knox"
Read more
0

অতি প্রয়োজনীয় ভেক্টর ফাইল - ডিজাইনারদের প্রিয় কালেকশন

অতি প্রয়োজনীয় ভেক্টর ফাইল - ডিজাইনারদের প্রিয় কালেকশন: "

নিজের ভাল ডিজাইনগুলো সংগ্রহে রাখলে এক কাজ হাজার বার করতে হয় না ।(এ ব্যপারে গ্রাফিক ডিজাইনারের জন্য করনীয় বিষয় নিয়ে আগেই একটি টিউটরিয়াল প্রকাশ করা হয়েছে) এবার দেখবো সেরা লোকের সেরা কাজগুলো। ডাউনলোড করে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে ডিজাইন করুন। প্রায় প্রতিটিতেই লেখকের নাম,সূত্র,ও লেখকের সাইটের ঠিকানা দেয়া হলো তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। তাহলে শুরু হোক ডাউনলোডের পালা….


১৫ টি ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন



ফাইল ফরমেট: 1 eps/svg, 15 png

লেখক/উতপাদক: DragonArtz

রেজুলেশন: png @550dpi (1841×1191)

ফাইল সাইজ: 3,4 মেগা বাইট


ডাউনলোড করুন ( ডিপোজিট ফাইলস থেকে )


ফুলের ভেক্টর



ফাইল ফরমেট: 1 eps/svg, 2 png

লেখক/উতপাদক: DragonArtz

রেজুলেশন: png @ 550dpi (7639×7639)

ফাইল সাইজ: ১৩.৫ মেগাবাইট

ডাউনলোড করুন ডিপোজিট ফাইলস থেকে


প্রাকৃতিক ছবি



ফাইল ফরমেট: 162.93 kB(compressed)

লেখক/উতপাদক: EPS

লেখক/উতপাদক: Dryicons.com

ডাউনলোড Growing nature vector


ডেকোরেটেড প্যাটার্ন


_vector-decorart-preview3-by-dragonart



Format: 1 eps/svg, 12 png

Author: DragonArtz

Resolution: png @ 550dpi (7639×7639)

Size: 1,3Mb (Vector Only) / 35,2Mb (PNG Only)

ভেক্টর

ডাউনলোড Depositfiles


PNG

ডাউনলোড Depositfiles

ডাউনলোড Rapidshare

ডাউনলোড Megaupload


আলোক সজ্জা


_vector-light-rays-with-sparkles-preview-by-dragonart


Format: 1 eps/svg, 9 png

Resolution: png @ 550dpi (7639×7639)

Size: 7Mb (Vector Only) / 44Mb (PNG Only)



ভেক্টর

ডাউনলোড Depositfiles


PNG

ডাউনলোড Depositfiles

ডাউনলোড Rapidshare


লাইন ভেক্টর


vector-line-art-05-by-dragonart


by DragonArtz


Format: 1 eps/svg, 14 png

Resolution: png @ 550dpi (7639×7639)

Size: 1 Mb (Vector Only) / 12,2Mb (PNG Only)

Vector

ডাউনলোড Depositfiles


PNG

ডাউনলোড Depositfiles

ডাউনলোড Rapidshare


দশটি নতুন ও সরা সেরা ভেক্টর (ছবিতে ক্লিক করে ডাউনলোড করুন)


খরগোস


vector-freebies-squirrel



আফ্রিকার প্রানী


vector-freebies-africananimals


ঘোড়া


vector-freebies-horses


নাচের দৃশ্য


vector-freebies-dancers


HDR ক্যামেরা


vector-freebies-hdr-camera


ছুরি


vector-freebies-redmillion_knives


স্টিকার


vector-freebies-sticker_character


মানব দেহ


vector-freebies-smdsilhoutte


পেন্সল


vector-freebies-pencils


মটর স্পোর্টস


vector-freebies-sports


গিফট বক্স


vector-freebies-giftbox

"
Read more
0

বিবিধ | কয়েকটি হাতের কারুকাজ

বিবিধ | কয়েকটি হাতের কারুকাজ: "হাত দিয়ে কবি কবিতা লিখে, শিল্পী ছবি আঁকে, খুনীরা খুন করে আবার যাদুকর যাদু দেখায় , আর সেই হাতে মাধ্যমে রঙ দিয়ে বিভিন্ন প্রানীর প্রতিকৃতীর কিছু ছবি আজ আপনাদের কাছে উপস্থাপন করবো । আশা করি সকলের কাছে ভালো লাগবে ।

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

আপনারা হইতো ছবিগুলো আগে দেখেছেন।আমার ভাল লাগলো তাই যারা দেখেনি তাদের জন্য শেয়ার করলাম।

সূত্র:- এই ছবি গুলো টেকটিউস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

অবসর.কম ফোরামের পরিসংখ্যান : পোস্টটি করা হয়েছে লিখেছেন দুখী মিয়া • মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2009 1:58 pm • উত্তর 0 • প্রদর্শন 2
"
Read more
0

ক্ষেপনাস্ত্রের সাতকাহন - ১

ক্ষেপনাস্ত্রের সাতকাহন - ১: "লিখেছেন নুভান (পোস্টটি করা হয়েছে সোমবার,, ২৬ অক্টোবর ২০০৯ ০১:০৮:৪৪ GMT)
ছবি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত জার্মান ভি-২ রকেটের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন (সুত্রঃ উইকি)

সত্যি কথা বলতে কি, ক্ষেপনাস্ত্র বা মিসাইল নামটি ভয়ঙ্কর শোনালেও বস্তুত মিসাইল আর রকেটের মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্যই। রকেট কি কাজে লাগে তা আমরা মোটামুটি ভাবে অনেকেই জানি, রকেটকে বলা যায় মিসাইলের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাশুন্যে মানুষ, যন্ত্রাংশ বা কৃত্তিম উপগ্রহ পাঠাতে রকেট ব্যবহৃত হয়। তবে এবার মিসাইল বা ক্ষেপনাস্ত্র সম্পর্কে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
মিসাইল হলো, স্ব-জ্বালানী নির্ভর নিক্ষেপিত রকেট যাতে নিউক্লিয়ার বা প্রচলিত ওয়ারহেড থাকে। হাউই-বাজির সাথে আমরা পরিচিত (বানান ঠিক আছে কিনা জানিনা, ইংরেজিতে বলি ফায়ার ওয়র্কস), সেগুলোর একটি পরিমার্জিত ও আধুনিক রূপ হলো মিসাইল। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এই মিসাইল টেকনলজি সর্বপ্রথম আমাদের উপমহাদেশেই প্রথম যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যাবহৃত হয়, মহিসুরের টিপু সুলতান ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম ব্যাবহার করেন। এরপর কালের বিবর্তনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা ভি-২ নামের মিসাইল উদ্ভব করে যা কিনা প্রথম আধুনিক মিসাইল হিসেবে স্বীকৃত। আধুনিক বলতে বুঝানো হচ্ছে মিসাইলের যথাযথ ও নির্ভূল ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের কৌশল। তাই এ ক্ষেত্রে এ্যারোডিনামিক্স বা বায়ুবিদ্যা ও কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং বা নিয়ন্ত্রন কৌশল অত্যন্ত জরুরী। তার সাথে আবার জুড়ি আছে মিসাইলের লক্ষ্যভেদের সীমানা বা রেঞ্জ ও ভারবাহন ক্ষমতা বা পে-লোড এর ব্যপার-স্যপার।
এই আলোচনাকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি যেমন, মিসাইল গাইডেন্স বা পরিচালনা, বায়ুবিদ্যা, মিসাইলের ইঞ্জিন ও ওয়ারহেড নিয়ে।
প্রথমেই আসি গাইডেন্স বলতে কি বুঝি, খুব সহজ ভাবে চিন্তা করি, গুলতি দিয়ে পাখি শিকারে আমরা প্রথমে লক্ষ্যবস্তুকে স্থির করে নেই। এরপর ঢিল ছুড়ি, ঠিক সেরকম-ই হলো গাইডেন্স, অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুকে স্থির করা। আগে পদার্থবিদ্যার পরাবৃত্তের জটিল সমীকরন দিয়ে মিসাইল গাইড করা হতো, কিন্তু এখন মূল ভিত্তি ঠিক রেখে আরও নির্ভূল ভাবে মিসাইল গাইডের জন্য স্বল্প পাল্লার মিসাইল লেসার বা হিট সিকিং ডিভাইস দিয়ে ও দূর পাল্লার মিসাইল স্যাটেলাইট ও জিপিএস দিয়ে গাইড করা হয়। মূলত, হিট সিকিং গাইডেন্স বিমান থেকে বিমানে (Air-to-Air) নিক্ষিপ্ত মিসাইলে ব্যাবহার করা হয়।
এরপর আসি বায়ুবিদ্যায়, একটি মিসাইলকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বায়ুবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। মিসাইলের আকার, আকৃতি, রেঞ্জ অনেক কিছুই নির্ভর করে এই অ্যা্রোডিনামিক্সের ওপর। বার্নলির সুত্রের ওপর ভিত্তি করে মিসাইল বা বিমান আকাশে এগিয়ে চলে। ভূপৃষ্ঠের নিম্নাংশের বায়ুর ঘনত্বে তুলনায় ওপরের পৃষ্ঠে বায়ুর ঘনত্ব কম আর তাই টার্বুলেন্স বা উত্তাল বেশি। আর তাই ক্ষেপনাস্ত্রের নির্দিষ্ট গতিপথ থেকে বিচ্যুতির সম্ভাবনাও তত-ই প্রবল। এসব দিক বিবেচনা করে মিসাইল ডিজাইন করা হয়।
মিসাইলের ইঞ্জিনের সাথে রকেট ইঞ্জিনের তেমন কোন পার্থক্য নেই। রকেট ইঞ্জিনে সলিড ফুয়েল বা লিকুইড ফুয়েল ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। সলিড ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানী বহু আগে থেকেই চায়নিজ ও আরবরা ব্যাবহার করে আসছে, এতে বারুদ, জিংক-সালফার ও এমোনিয়াম নাইট্রেটের মিশ্রন থাকে যা কিনা নিয়ন্ত্রন করে তরল জ্বালানী থেকে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক। রকেটের তরল জ্বালানীতে তরল হাইড্রোজেন, হাইড্রাজিন, ইথানল বা পারঅক্সাইডের সাথে তরল অক্সিজেন মিশ্রন ঘটিয়ে দাহ্য পদার্থে পরিনত করে ইঞ্জিন ইগনাইট করা হয়।
ওয়ারহেড হলো মিসাইলের এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। ওয়ারহেড বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন, প্রচলিত কনভেনশনাল ওয়ারহেড বা বারুদে ঠাসা, ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড যাতে ধাতদ টুকরা থাকে, কেমিক্যাল ওয়ারহেড যাতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ – বিষাক্ত গ্যাস বা তরল থাকতে পারে যেমন মাস্টার্ড গ্যাস, বায়োলজিক্যাল ওয়ারহেড যাতে কিনা বায়োলজিক্যাল বিষাক্ত পদার্থ থাকে যেমন অ্যান্থ্রাক্স, আর বহুল আলোচিতো নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডে কি থাকে সেটা তো আন্দাজ-ই করা যায়।

(চলবে...)
উইকি, http://www.fas.org/index.html

মূল টপিকটি পড়ুন
"
Read more
0

ফটোশপ দিয়ে বদলে দিন চোখের রং

ফটোশপ দিয়ে বদলে দিন চোখের রং: "


জয়িতার মন খারাপ। ঐশ্বরিয়ার মত তার চোখ নীল নীল নয় । মাঝে মাঝে ভাবে চোখে লেন্স পড়বে। কিন্তু রাহাতে জন্য তা আর করা হয়ে ওঠেনা। কালো চোখই তার বেশি প্রিয়। তাই রাহাতের প্রতি একটা ছোট্ট ক্ষোভ জয়িতার রয়েই গেছে। সেদিন জন্মদিনের পার্টিতে ঠিক ঐশ্বরিয়ার মত করে সাজলো । চোখে লেন্সও পড়লো। কিন্তু যেই রাহাতের মুখোমুখি দাঁড়ালো অমনি রাহাতের মুখটা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেল। আর জয়িতাও মন খারাপ করে লেন্সটা খুলে ফেললো। কদিন পর হঠাৎ নিজের ডেস্কের উপর একটা এ্যালবাম দেখতে পায় জয়িতা। আরে এতো তার জন্মদিনে তোলা ছবিগুলো। কি সুন্দর লাগছে ওকে । একেবারে তার মনের মত। কিন্তু তার চোখগুলো নীল হলো কি করে। একরাশ বিস্ময় নিয়ে জয়িতা ঘুরে দাড়াঁয় । অবাক হয়ে দ্যাখে রাহাত হাসছে। আর তখনই জয়িতার মনে পড়ে যায় এটা ফটোশপের কারসাজি।


রাহাতের মত আপনিও চাইলেই আপনার অথবা আপনার প্রিয়জনের ছবির চোখের রং পাল্টে দিতে পারেন।কেমন করে করবেন সেটা জানাতেই আমাদের আজকের এই টিউটোরিয়াল।তো হয়ে যাক. . .

আসল ইমেজ

ছবি

পরিবর্তিত ইমেজ

ছবি

স্টেপ ১.

প্রথমে একটি ইমেজ ওপেন করুন।আমি এখানে নিচের এই .jpg ইমেজটি নিয়েছি।

ছবি

স্টেপ ২.

এবার Elliptical marquee নামের সিলেকশন টুল ব্যবহার করে চোখের মাঝখান টা সিলেক্ট করুন। আপনি চাইলে Lasso tool অথবা Pen tool দিয়েও কাজটি করতে পারেন। এবার সিলেকশনে ফেদার যোগ করুন। এজন্য নিচের কমান্ডটি প্রয়োগ করুন:

Select-Feather (3-5 pixel) এবং OK করুন।


ছবি


স্টেপ ৩.

ব্যাকগ্রাউন্ড লেয়ারটির উপরে আর একটি লেয়ার তৈরী করুন এবং এর নাম দিন Layer- 1। এখন Layer-1 সিলেক্ট থাকা অবস্থায় গ্রাডিয়েন্ট টুল সিলেক্ট করুন ;এজন্য Select-Radial Gradient (Black and White), Mode-Normal, Opacity100%,Transparency-Allowed করুন এবং চোখের মনির মাঝখান থেকে বাইরে পযর্ন্ত ড্রাগ করুন। লক্ষ্য রাখবেন ফোরগ্রাউন্ড কালার কালো এবং ব্যাকপ্রাউন্ড কালার যেন সাদা থাকে। না থাকলে কিবোর্ডে D চেপে কালার সেটিংস করে নিন।

ছবি

স্টেপ ৪.


Ctrl+D চেপে ডিসিলেক্ট করে নিন এবং Different clouds filter প্রয়োগ করুন।এজন্যFilter-Render-Different clouds কমান্ডটি প্রয়োগ করুন ।

ছবি


স্টেপ ৫.

এবার Ctrl+I চেপে লেয়ারটিকে কনভার্ট করে নিন।

ছবি

স্টেপ ৬.


Layer-1 নামের লেয়ারটি সিলেক্ট থাকা অবস্থায় এর Hue/Saturation বদলে দিন।এজন্য নিচের কমান্ডটি প্রয়োগ করুন-

Image > Adjustments > Hue/Saturation

Hue: +(190-205অথবা পছন্দমত)

Saturation: 100

Lightness: 0 এবং colorize Box এ টিক দিন।

ছবি


ফলে ইমেজটি দেখতে নিচের ছবিটির মত হবে।

ছবি




স্টেপ ৭.


এবার লেয়ারটির উপর রাইট মাউস ক্লিক করে এর ব্লেন্ডিং মোড color dodge করে দিন। অথবা আপনি লেয়ার মেন্যুর ব্লেন্ডিং অপশন এ গিয়েও মোড বদলে দিতে পারেন। Opacity-89 এবং Fill Opacity-74 করুন। আপনি চাইলে আপনার পছন্দমত সেটিংস দিতে পারেন, যেমনটা আপনি চাইবেন।


ছবি

স্টেপ ৮:

Ctrl+E চেপে মার্জ ডাউন করুন এবং চূড়ান্ত ফলাফল দেখুন।

ছবি


আমাদের প্রযুক্তিতে র্পূব প্রকাশিত http://forum.amaderprojukti.com/viewtopic.php?f=57&t=1941

"
Read more
0

ফটোশপ | ফটোসপ টিউটোরিয়াল-০৩

ফটোশপ | ফটোসপ টিউটোরিয়াল-০৩: "আসুন ফটোসপে টেক্সট ইফেক্ট দিতে শিখি। খুব সহজ......... একবার চেষ্টা করেই দেখুন না........

আপনি যদি সবধাপগুলো সফলভাবে করতে পারেন তাহলে ফাইনাল ইমেজ এমন হবে

ছবি


প্রথমে ফটোসপ ওপেন করে নতুন পেজ বা ডকুমেন্ট নিন।
যার সাইজ হবে ১০০০ বাই ৫০০ পিক্সেল, রেজুলেশন হবে ৭২ এবং RGB কালার মুডে হবে।

এরপর এর উপর টেক্চার এ্যাপ্লাই করুন। না পারলে গ্রিডেন্ট টুল ব্যবহার করতে পারেন। গ্রিডেন্ট টুল আনতে হলে কিবোর্ড থেকে G চাপতে হবে।

ছবি


টেক্চার বা গ্রিডেন্ট এর কালার পছন্দ না হলে আপনি কালার সহজেই চেইঞ্জ করে নিতে পারেন। এজন্য Image > Adjustments > Hue/Saturation এ যান অথবা কিবোর্ড থেকে Ctrl+U চাপুন।

ছবি

এখানে বিভিন্ন মানের পরিবর্তন ও কালার পরিবর্তন করে টেক্চার বা গ্রিডেন্টের কালার পরিবর্তন করা যায়।

ছবি


Sharpen Tool ব্যবহার করে টেক্চার বা গ্রিডেন্ট কে Sharpen করে নিতে পারেন।

ছবি

এরপর Horizontal Type Tool টুল ব্যবহার করে টেক্টট যোগ করুন। টেক্সট একটু বড় করে নিন

ছবি


এরপর Layer>Layer Style থেকে একে একে পর্যায়ক্রমে নিচের অপশনে গিয়ে নিচের মত করে সেটিংস এ্যাপ্লাই করুন---

আপনি একে একে নিচের অপশনগুলোতে যাবেন

• Drop Shadow
• Inner Shadow
• Outer Glow
• Inner Glow
• Bevel and Emboss
• Contour
• Satin
• Color Overlay
• Pattern Overlay
• Stroke

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

ছবি

আপনি যদি সবগুলো সেটিংস এ্যাপ্লাই করতে পারেন তাহলে ফাইনাল ইমেজ এমন হবে

ছবি


পোষ্টটি আমার ব্লগে পূর্ব প্রকাশিত

অবসর.কম ফোরামের পরিসংখ্যান : পোস্টটি করা হয়েছে লিখেছেন রাসেল আহমেদ • রবিবার, অক্টোবর 25, 2009 2:30 am • উত্তর 0 • প্রদর্শন 1
"
Read more